দ্বিতীয় অধ্যায়: অনন্যা যুবতী ইউন ইয়ান

পরীরূপা, অনুগ্রহ করে একটু থামো ভবঘুরে গারফিল্ড 3810শব্দ 2026-03-04 21:47:29

অজানা এক অন্ধকার গুহার ভেতর বেগুনি আভা ধীরে ধীরে বাতাসে প্রবাহিত হচ্ছে। ঠান্ডা বাতাস সামনের এক বিশাল তলাহীন গহ্বর থেকে উঠে আসছে—গহ্বরটি প্রায় দশ-বারো কদম চওড়া, কয়েক দশ কদম লম্বা, চরম অন্ধকারে ঢাকা, যেন নরকের পথে মৃত আত্মাদের গমনপথ, যার শীতলতা হাড়ে কাঁপন ধরায়।

মেঘছায়া দাঁড়িয়ে আছে গহ্বরের কিনারে; তার উজ্জ্বল চোখ দু'টো অস্ফুট দৃষ্টিতে ওপারে তাকিয়ে আছে, যেখানে গহ্বরটি এক ছোট্ট প্ল্যাটফর্মকে আলাদা করে রেখেছে। বেগুনি আভায় আবছা দেখা যায়, কারও একজন পিঠ ঘুরিয়ে পদ্মাসনে বসে আছেন।

তার ডান ও বাম পাশে বাতাসে ভাসছে দুটি জিনিস—একটি প্রাচীন চিত্র এবং একটি পুরনো আয়না। গুহার ভেতরের হালকা বেগুনি আলো সেই আয়নার মধ্য থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে।

ঠান্ডা বাতাস, বেগুনি আলো, আর সেই পিঠ ফেরানো রহস্যময় ব্যক্তি—এই অজানা প্রাচীন গুহায় মেঘছায়ার বুক ধড়ফড় করে ওঠে; শীতলতা তার সমস্ত শরীর ছেয়ে নেয়। কখনও কল্পনা করেনি, যুগ যুগ ধরে বন্ধ থাকা গুহার গভীরে এখনও কেউ থাকতে পারে!

অনেকক্ষণ ইতস্তত করার পর অবশেষে সে দুই হাত জোড় করে উচ্চস্বরে ডাকে, ‘‘শু-শান পবর্তের শিষ্য মেঘছায়া, অজান্তে এখানে প্রবেশ করে মহাশয়ের ধ্যানভঙ্গ করলাম, দয়া করে ক্ষমা করবেন।’’

গুহার ভেতর কেবল তারই কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হয়, ধীরে ধীরে তা মিলিয়ে যায়; কিন্তু পদ্মাসনে বসা ব্যক্তি বিন্দুমাত্র নড়েন না।

মেঘছায়া আবার কয়েকবার ডাকে; দেখেও ওপারের প্ল্যাটফর্মে বসা লোকটির কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। সে মনে মনে ভাবে, ‘‘নাকি, তিনি মারা গেছেন?’’

প্রাচীনকাল থেকেই মৃত্যু অনিবার্য; সাধকরা শতবর্ষ বেঁচে থাকলেও মৃত্যুচক্র এড়াতে পারে না। কেউ কেউ পরলোকগমনের পর, দেহে জমে থাকা অশেষ আত্মিক শক্তি মুক্তি না পাওয়ায়, দেহ শক্ত হয়ে যায়, চামড়া পাথরের মতো কঠিন হয়ে ওঠে—হাজারো বছরেও পচে না। এই অবস্থাকে বলা হয় পাথরদেহ।

এই প্রাচীন গুহায় কতকাল কেউ আসেনি, কে জানে—তাই ওপারের সেই ব্যক্তি পাথরদেহ হয়ে আছেন, এমনটা অস্বাভাবিক নয়।

‘‘যেহেতু তিনি পরলোকগমন করেছেন, তাঁর মাথার ওপর ভাসমান প্রাচীন চিত্র আর আয়নাও নিশ্চয়ই নিঃস্বত্ব হয়ে গেছে! এত বড় বিপদ থেকে বেঁচে ফিরে নিশ্চয়ই ভাগ্যে ভালো কিছু আছে!’’—মনে মনে উত্তেজনা দমাতে পারে না মেঘছায়া, মুখ দিয়ে অজান্তেই লালা পড়ে।

ছোটবেলা থেকেই修炼-এর প্রতি তার অনাসক্তি, বিশেষ করে দুই বছর আগে মানসিক দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ার পর থেকে তার অগ্রগতি থেমে গেছে। তাই সে নানারকম অদ্ভুত জিনিস আর জাদু সরঞ্জামে মজে গেছে।

কিছুদিন পরেই ষাট বছর পরপর আয়োজিত মানসিক দ্বন্দ্বের যুদ্ধ শুরু হবে, কিন্তু তার修为 এখনও অপ্রতুল। তাই সে চুপিচুপি শু-শান পর্বতের গোপন গুহায় প্রবেশ করেছে, ভেবেছিল আত্মরক্ষার জন্য এক-দুটি মূল্যবান仙器 খুঁজে পাবে।

কিন্তু সামনে পড়ে রয়েছে বিশাল গহ্বর। সে এখনও তরবারি চড়ে উড়ে যেতে পারে না, হালকা চালে সর্বোচ্চ চার-পাঁচ কদম লাফাতে পারে; এই গহ্বর পার হওয়া অসম্ভব।

তবু সে হাল ছাড়ে না। গহ্বরের কিনারা ধরে খুঁজতে থাকে; অবশেষে বাঁ দিকে কিছু পাথর বেরিয়ে আছে দেখে আশা জাগে।

‘‘বোধহয় পার হবো!’’

অনেকক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর, অন্ধকার গহ্বরের দিকে একবার তাকিয়ে, দাঁত চেপে, উলঙ্গ শরীর দিয়ে পাথরে লেপ্টে যায়। দুই হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে পাথরের খাঁজ, ধীরে ধীরে এগোতে থাকে। বুক ধড়ফড় করে, একটুও অসতর্ক হলে পড়ে যাবে তলাহীন গহ্বরে।

দীর্ঘ সময় স্নায়ুচাপের পর অবশেষে গহ্বর পেরিয়ে ওপারের প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে যায়; মুখ ফ্যাকাশে।

দিনে হাজার কদম পাহাড়ে উঠতে তার ভয় নেই, কিন্তু পায়ের নিচে তলাহীন গহ্বর, আশেপাশে অন্ধকার আর ঠান্ডা বাতাসে শরীর অবশ হয়ে যায়। অজানা অন্ধকারের ভয়,修真-সাধকও এড়াতে পারে না। নিচের অন্ধকার ও ঠান্ডা বাতাস যেন মানুষ ও মৃতদের জগতের সংযোগপথ।

প্ল্যাটফর্মে পৌঁছেও সে লোভে অন্ধ হয়ে ভেসে থাকা প্রাচীন চিত্র কিংবা আয়নার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েনি। বরং দূরে দাঁড়িয়ে বসে থাকা রহস্যময় ছায়াটিকে দেখে।

ওই ব্যক্তি পিঠ ঘুরিয়ে বসায় সে ভালোভাবে দেখতে পারেনি; এবার তিন-চার কদম দূরে দাঁড়িয়ে, আয়নার বেগুনি আলোয় অবশেষে দেখতে পেল—

‘‘এ তো মেয়ে!’’—মেঘছায়া বিস্ময়ে চমকে উঠে।

সে কল্পনাই করেনি, গহ্বরের কিনারে পদ্মাসনে বসা সেই ব্যক্তি আসলে একটি মেয়ে! আর সে মেয়েটি খুবই তরুণী, হয়তো পনেরো-ষোলো বছরের বেশি নয়। অজানা কোনো পাখি-জন্তুর পালক দিয়ে তৈরি চাদর গায়ে, কালো লম্বা চুল, দুই কাঁধ বেয়ে বুক ছুঁয়ে নেমে গেছে। নাক-চোখ মুখ অতি সূক্ষ্ম, লাল টুকটুকে গাল, একেবারেই পাথরদেহের মতো কালচে নয়।

মেঘছায়া জড়িয়ে জড়িয়ে বলল, ‘‘দিদি? মহাশয়া? অপ্সরা? নারী-প্রেতাত্মা? নারী-দানব?’’

কয়েকবার ডাকল, তবু মেয়েটি নড়ল না। এবার মেঘছায়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়, কিন্তু চোখে-মুখে সাবধানতা স্পষ্ট।

মেয়েটির কাছে যতই এগোয়, ততই শরীরে ঠান্ডা শীতলতা অনুভব করে। বিশেষ করে এক কদম দূরত্বে এসে দেখে চারপাশের তাপমাত্রা বেশ কমে গেছে, তার গায়ে কিছু নেই বলে স্পষ্ট ঠান্ডা লাগে।

‘‘সব কিছুতেই অদ্ভুত রহস্য আছে!’’ মনে মনে শিহরিত হয় মেঘছায়া। সে জানে, এই গুহা নিশ্চয়ই শু-শান পর্বতের সীমার মধ্যে, তবু অজানা শঙ্কা কাঁপিয়ে তোলে।

আরো কাছে গিয়ে দেখে, মেয়েটির শরীরে স্বচ্ছ বরফের স্তর; বরফটি একটু বড় ও স্বচ্ছ হওয়ায় প্রথমে বোঝা যায়নি, মেয়েটি আসলে বরফের মধ্যে বসে আছে।

এবার সে বুঝল, কেন মেয়েটির চারপাশ এত ঠান্ডা—সবই এই বরফের খেলা।

মেঘছায়া এই অদ্ভুত অবস্থা ব্যাখ্যা করতে পারে না, তবে ভয় অনেকটাই কেটে যায়। মেয়েটি যখন বরফে আবদ্ধ, তখন সে নিশ্চয়ই মৃত, পুনর্জীবনের সম্ভাবনাও নেই।

সে সাহস করে মেয়েটির পাশে যায়। এবার মেয়েটিকে আর নজর না দিয়ে, দৃষ্টি দেয় মেয়েটির মাথার ওপর ভাসমান প্রাচীন চিত্র ও আয়নার দিকে।

আয়নাটি মাত্র তালুর সমান, চারপাশ ও পেছনে অনেক道চিহ্ন ও মন্ত্র লেখা, আয়না থেকে বেগুনি আলো প্রবাহিত হচ্ছে, যেন ভেতরে অন্য এক রহস্যময় জগৎ লুকিয়ে আছে।

মেঘছায়া চেয়েছিল আয়নায় নিজেকে দেখে, কিন্তু মনে পড়ল—তার মাথার চুল, ভ্রু কিছুই নেই, দেহে একবিন্দু কাপড় নেই, মৃত সুন্দরী পাশে বসে—বাড়তি লজ্জা লাগল।

‘‘এ আয়না নিশ্চয়ই অমূল্য জাদু সরঞ্জাম। এখন যেহেতু মালিকহীন, বুঝি আমারই হল!’’—নির্দ্বিধায় ঘোষণা করে, হাত বাড়িয়ে আয়নাটি নামিয়ে নেয়।

এরপর সে চোখ রাখে মেয়েটির মাথার ওপর ভাসমান চিত্রটিতে। আঁকায় এক অপরূপা তরুণী, মেঘের ওপর ভাসছেন, শুভ্রবস্ত্র, কোমরে সবুজ বাঁশি গোঁজা, রূপে-গুণে অপ্সরার মতো।

অঙ্কনশৈলী অতুলনীয়, রেখার টানে জীবন্ত মনে হয়, যেন স্বর্গের অপ্সরা, মানুষের হাতে আঁকা বলে মনে হয় না।

মেঘছায়া ভেবেছিল, মেয়েটির নিজের চিত্র, কিন্তু তুলনা করে দেখে—চিত্রের তরুণী ও বরফে আবদ্ধ মেয়েটি এক নয়।

চিত্রে তরুণীর মুক্তার মতো দাঁত, গোলাপি ঠোঁট, বাঁকা ভুরু, টানা চোখ, দুই কানে অদ্ভুত দুল; এক হাতে বাঁশের কলম, কালো কালি লেগে আছে, অন্য হাতে সবুজ বাঁশের গ্রন্থ—গম্ভীর পাণ্ডিত্যের ছাপ।

বিশাল আকাশ, মেঘের ছায়া, দুই পেছনে উড়ন্ত দুটি বক—সব মিলে অপার্থিব সৌন্দর্য, সাধারণ চোখে দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না এমন চিত্র মানুষের হাতে আঁকা।

‘‘আরে বাবা, কোন চিত্রশিল্পীর সৃষ্টি! আমার বাবা-মা’র সংগ্রহে থাকা বিখ্যাত ছবিগুলোর এক শতাংশও এই চিত্রের কাছে আসে না—এই রেখা, এই প্রাণ, এই সৌন্দর্য... মনে হয় ছবির মধ্যেই আত্মিক শক্তি প্রবাহিত হচ্ছে!’’

মেঘছায়া যদিও সাধারণ, তবু একনজর দেখেই মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করে।

তৎক্ষণাৎ দেখে, চিত্রের বাঁ দিকের ওপরে কোনো নাম নেই, শুধু কয়েকটি পদ্য লিখিত। যখন সে লেখাগুলি পড়ে, মুখ মুহূর্তে বিবর্ণ, চোখ রক্তাক্ত, শরীর কেঁপে উঠে, নিঃশ্বাস ও হৃদস্পন্দন প্রায় থেমে যায়।

আটটি আকাশপথ, মেঘ ও বাতাস, শুধু পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণ ও মধ্যভাগের শোক।

জগতের শক্তি, তিন জন্মের মিলন, এক ঝলকে আকাশ কেঁপে ওঠে।

এই চারটি কবিতা, আটাশটি অক্ষর, প্রত্যেকটি যেন লোহার খোদাই, অক্ষরে অক্ষরে শক্তি; আঁকিয়ের দম বন্ধ করা আত্মশক্তি প্রতিটি অক্ষরে ফুটে উঠেছে।

মেঘছায়া ভাবল, সে বুঝি স্বপ্ন দেখছে—কারণ সে এই চিত্রের কথা শুনেছে, শুধু সে নয়, আজকের বিশ্বে কোটি মানুষ এ চিত্রের কথা জানে।

গল্প আছে, আট হাজার বছর আগে এক মহাজ্ঞানী প্রকৃতির রহস্য উদ্ঘাটন করে অমরত্ব লাভ করেন, নাম ছিল ভাগ্যদ্রষ্টা। তিনি দেবত্ব লাভের পর পৃথিবীতে আটটি চিত্র রেখে যান, প্রতিটিতে অসীম রহস্য, যিনি বুঝতে পারবে সে-ও অমরত্ব লাভ করবে। তিনি রেখে যান চারটি গূঢ় পংক্তি—

‘‘আকাশে লুকানো, সূর্য-চাঁদ পাহারা,
চতুর্দিকের দ্বার, অপ্সরা-মেঘের সামনে।’’

আট হাজার বছরে অসংখ্য জ্ঞানী চেষ্টা করেও এই চারটি পংক্তির অর্থ উদ্ধার করতে পারেনি, অনেকে ভেবেছে শুধু কল্পকাহিনি, ধীরে ধীরে ভুলে গেছে সবাই।

ছয়শো বছর আগে, দিগন্তের পাহাড়ে এক মেঘের অপ্সরা এই চারটি পংক্তির মর্ম উদ্ধার করেন, পেয়ে যান ভাগ্যদ্রষ্টার অষ্টচিত্রের একটি—‘অপ্সরা মেঘছবি’।

‘অপ্সরা মেঘছবি’ প্রকাশিত হতেই বিশ্বব্যাপী হানাহানি শুরু হয়; অমরত্বের রহস্য লুকিয়ে থাকা চিত্রের জন্য ধর্ম, তান্ত্রিক, বৌদ্ধ, পুরোহিত, ভূত, দৈত্য, পণ্ডিত—সব পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

ইতিহাসে তা ‘স্বর্ণশিখরে মহাযুদ্ধ’ নামে খ্যাত।

সেই যুদ্ধের পর অপ্সরা মেঘছবি ও মেঘের অপ্সরা উভয়ে নিখোঁজ হয়ে যান; সবাই ধরে নেয় শু-শান পর্বতের লোকেরা পেয়েছে। বহু বছর ধরে বহু পক্ষ শু-শান পর্বতের উপর হামলা চালিয়ে গেছে।

মেঘছায়া নিজে কোনোদিন সে চিত্র দেখেনি, তবে শু-শানের প্রবীণরা দেখেছিল—তার বাবা-মা-ও উচ্চপদস্থ, তারা চিত্রের চারটি পংক্তির কথা বলেছে।

‘‘‘অপ্সরা মেঘছবি’?’’

মনে হয় হৃদয় থেমে যাচ্ছে, রক্ত গরম হয়ে ফুটছে। এখন নিশ্চিত, তার হাতে যে চিত্র, সেটি ছয়শো বছর আগে সারা বিশ্বে তোলপাড় তোলা ভাগ্যদ্রষ্টার অষ্টচিত্রের একটি—‘অপ্সরা মেঘছবি’।

ভাবতেও পারেনি, এত কাঙ্ক্ষিত এই চিত্র ছয়শো বছর ধরে শু-শান পর্বতের পেছনের অজানা গুহায় লুকানো ছিল।

স্বপ্ন নাকি সত্যি, বুঝতে নিজের বাহু চিমটি কাটে।

‘‘বাহবা! ধনী হয়ে গেলাম! এ তো সত্যিই ‘অপ্সরা মেঘছবি’! স্বপ্ন নয়!’’

নগ্ন দেহে গুহার প্ল্যাটফর্মে সে নাচতে শুরু করল, আনন্দে লাফিয়ে কয়েকবার গলাগুলি কাটল, অল্পের জন্য গহ্বরে পড়ে যাচ্ছিল।

অনেকক্ষণ আনন্দে মাতোয়ারা থেকে, ‘অপ্সরা মেঘছবি’ বুকের কাছে চেপে ধরে নির্বোধের মতো হাসতে লাগল। মনে মনে কল্পনা করতে লাগল—চিত্রের রহস্য বুঝে ভাগ্যদ্রষ্টার মতো অমর হবে, শত অপ্সরা বিয়ে করবে, চিরতরে স্বেচ্ছাচারী জীবন কাটাবে।